ডুমুরিয়ায় নদী খননের ফলে আবারো গৃহহীন হয়ে পড়েছে চুকনগর আবাসনের ৫ শতাধিক মানুষ। পুনর্বাসন না করেই উচ্ছেদ করা হয়েছে প্রকল্পের ৮০টি ঘর। নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে এক সপ্তাহ মাঠে ঘাটে খোলা আকাশের নিচে গড়িয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। একদিকে ভোটের উৎসব অন্যদিকে গরীবের কান্না, দেখার যেন কেউ নেই।
জানা যায়, চুকনগর পশুর হাটের পাশে আপার ভদ্রা নদীর তীরে ২৫ বছর আগে তৎকালীন সরকার ছিন্নমূল ৮০ পরিবারকে পুনর্বাসন করে। সেই থেকে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে আধাপাকা ঘরে বসবাস করে আসছেন। ওই প্রকল্পে ৫ শতাধিক লোক বসবাস করছিলেন। ছিন্নমুল মানুষগুলো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু নিমেষেই তাদের সোনালী স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। আপার ভদ্রা নদী খনন করতে গিয়ে ঘরগুলো ভেঙে দেয়া হয়। ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে পাশের একটি মাঠে অবস্থান করছে সেখানকার বাসিন্দারা। শীতের রাতে পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাসবাস করছে তারা।
হালিমা বেগম নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘সেনা বাহিনীর সদস্যরা তিন দিন সময় দিলো, কিন্তু আমরা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে কোথায় যাবো? এরপরে ঘরগুলো ভেঙে দেয়। তাই সবকিছু নিয়ে আমরা মাঠে পড়ে আছি। আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে দেখছি নে। ঘর ভাঙার পর এই ৫ দিনে দুটো পয়সা রোজগার হয়নি। কি খাবো তার কোান ঠিক নেই।’
শংকর নামের অপর এক বাসিন্দা জানান, ‘বড় নদী যেভাবে ভরাট হচ্ছে তাতে এখানে খনন করে কোন লাভ হবে বলে মনে হয় না। শুধু গরীবের ঘর উচ্ছেদ ছাড়া আর কিছুই হবে না। মূল নদী খনন না হলে আগামীতে এলাকা এমনিই জলাবদ্ধ হয়ে পড়বে। তাদেরকে পুনর্বাসন না করে ঘরগুলো উচ্ছেদ করায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে ঠেলে দেয়া হয়েছে।’ খেটে খাওয়া গরীব মানুষের মধ্যে আর ভোটের উৎসব নেই। কোথায় যাবে, কি খাবে এই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন তারা।
যশোর-ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে আপার ভদ্রাসহ ৬টি নদীর সাড়ে ৮১ কিলোমিটার খনন কাজ সেনাবাহিনীর তত্বাবধায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। নদীগুলো খনন হলে এ অঞ্চলের ১০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে এবং নদীগুলোর নাব্যতাসহ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার জানান, ‘কিছু দিন আগে আবাসনে যেয়ে তাদেরকে বলেছিলাম যদি নদী খননে ঘর বেঁধে যায় তা’হলে আমাকে জানাতে। কিন্তু তারা আমাকে আর জানায়নি। তবে গৃহহীন মানুষেদের জন্য কি করা যায় ডিসি স্যারের সাথে আলাপ করে পরবর্তি সিদ্ধান্ত নিব।’
খুলনা গেজেট/এনএম



